বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৩

২০১৩-১০-২৩: রিভিউ পেপারের রিভিউ

সকাল বেলায় প্রফেসরের মেইল পেলাম। আমার লেখা রিভিউ পেপারের রিভিউ ফলাফল এসেছে। কিছু গ্রামাটিক্যাল করেকশন, একটা figure আর একটা table যুক্ত করতে হবে। এমন কঠিন কোনো কাজ নয়। আশা করা যায় খুব সহজেই হয়ে যাবে। তবে আরেকটা পেপারের acceptance এর জন্য অপেক্ষা করছি। সেটা হয়ে গেলে সেটার রেফারেন্স include করে দেওয়া হবে। একটা গনিত বই ডাউনলোড করেছি। নাম: What is math? সারাদিন সেটা পড়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ৫০ পৃষ্ঠার বেশী এগুতে পারি নি। সন্ধায় খাওয়া-দাওয়ার পর আর ল্যাবে আসি নি। একটু মুভি দেখে শুয়ে পড়লাম। মুভির নাম Goodfellas. যতটা নাম-ডাক শুনেছিলাম ততটা ভালো লাগে নি। একই রকম কাহিনীর মুভি আগেও দেখেছি।

শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১২

২০১২-১২-১৩: বৃষ্টি

আগের দিন আবহাওয়া রিপোর্টে মেঘ দেখে ভেবেছিলাম তুষারপাত হবে। কিন্তু বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বুঝলাম তাপমাত্রা একটু বেড়েছে। এই বৃষ্টিতে আগে জমে থাকা বরফ গলে গিয়েছে। আজ দুপুরে রুই মাছ ভাজি করে ভাত খেয়েছি। রাতে সিলসং থেকে কেনা দেশী মুরগী রান্না করেছি। আগামীকাল নিজাম ভাইয়ের বিবাহ বার্ষিকী। রাত বারোটায় নিজাম ভাইয়ের বাসায় ভাই ও ভাবী কেক কেটেছেন। সেখানে কেক ও খিচুড়ী খাওয়া হয়ছে। দিনে কিছু ল্যাবওয়ার্ক করতে হয়ছে। আগামী কাল একটা ওপেনবুক পরীক্ষা আছে। ওপেনবুক বলে সেটা নিয়ে এখন পর্যন্ত মাথা ঘামাইনি। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে খুব ভোরেই ল্যাবে যাওয়ার প্ল্যান আছে।

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১২

2012-12-12: চমৎকার একটি তারিখ

আজকের দিনটা খুব সুন্দর। অন্তত তারিখটা। গত কয়েকদিন লিখিনি। ভেবেছিলাম এক সাথে কয়েক দিনেরটা লিখে ফেলব। কিন্তু ভাবতে ভাবতে অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। এখন আর আগের দিনের ব্যাপার-স্যাপার কিছু মনে নেই তাই গ্যাপ দিয়ে লিখতে হল।

আজকের তারিখটা খুব সুন্দর। ১২-১২-১২। দেশে নাকি বিয়ে করার ধুম পড়েছ। আমাদের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আজ বিয়ে করছে। সাকিব ছাড়া পরিচিত আর কারো বিয়ের খবর অবশ্য শুনিনি  সেই বিয়েতে আমি উপস্থিত থাকতে পারি নি।

পরিকল্পনা নিয়েছি এখন থেকে একটু বিস্তারিত লিখতে চেষ্টা করব। বিয়ের তারিখ নিয়ে একটু বিস্তারিত বলা যাক। আমার পরিচিত জনের মধ্যে বিয়ের তারিখ নিয়ে বেশ প্ল্যান-ট্যান দেখেছি। গত বছর ১১-১১-১১ তে আমার বন্ধু রাকিব বিয়ে করেছিল। আমার এক বন্ধু বিয়ের জন্য বেছে নিয়েছিল ২৫ ডিসেম্বর। কারন ছিল প্রতিবছর তাদের বিবাহ বার্ষিকীর দিনে ছুটি থাকবে।

১২-১২-১২ এর ব্যাপারে শোনা গিয়েছিল এই দিন দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে। মায়া সভ্যতার ক্যালেন্ডারে এই দিনটির পর আর কোনো তারিখের উল্ল্যেখ ছিলো না। তবে আমার জন্য এই দিনটি ছিলো আর ১০টা সাধারণ দিনের মতোই। research, research আর research.

শুক্রবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১২

2012-12-07: বছরের প্রথম তুষারপাত

দেগু শহরে তুষারপাত হয় কয়েক বছর পর পর। সেদিক থেকে আমি খুবই ভাগ্যবান। পর পর দুই শীতেই তুষারপাত পেয়েছি। গতবারে ছোটোখাটো তুষারপাত হয়েছিল। এবারে সেই তুলনায় বেশ ভারী বর্ষন হয়েছে।

তুষারপাত আর বৃষ্টির মেকানিজমের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। তাপমাত্রা একটু বেশী হলে বৃষ্টিপাত হয় আর কমে গেলে জলীয় বাষ্প জমে গিয়ে তুষার তৈরি করে। তবে তুষারের কণাগুলো বৃষ্টির ফোটার চেয়ে ছোট এবং হালকা। বেশ ফাঁপা থাকে। একারনে বেশ ধীরে ধীরে পড়ে। বৃষ্টির পানি যেমন গড়িয়ে নেমে যায় তুষার তেমন নামতে পারে না বলে যেখানে পড়ে সেখানেই জমে থাকে। একারনে সবদিক ধবধবে সাদা হয়ে যায়। এবারের তুষারপাতের আরো একটা সুবিধা হল এটা দিনের বেলায় হয়েছে। আমি আর ল্যাবের বড় ভাই নাজমুল ভাইকে নিয়ে তুষারের মধ্যে ছবি তুলেছি, সাথে ভাবী ও ছিলেন। আপনাদের জন্য কয়েকটি ছবি ও একটি ভিডিও।




তুষার এমনিতে ফাঁপা হয় এবং মাড়ালে পা ডুবে যায় আর চ্যাপ্টা বরফের আস্তরণ পড়ে থাকে। এই চ্যাপ্টা বরফ বেশ শক্ত এবং পিচ্ছিল হয়ে থাকে। এই পিচ্ছিল বরফের উপর দিয়েই আইস স্কেটিং করা হয়। রাস্তায় গাড়ি চালানো খুব বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। একারনে বরফের পরিমান বেশী হয়ে গেলে রাস্তার উপর বালু ছিটিয়ে দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১২

২০১২-১১-২৮: কোরিয়ান সেমিনার

আজ বিকাল পাঁচটায় কোরিয়ানে সেমিনার প্রেজেন্টেশন দিলাম। স্লাইড বানানোর পর প্রতিটা স্লাইডে কি বলব সেটা কোরিয়ান ল্যাব মেটকে বুঝিয়ে বলার পর সে সেগুলোকে কোরিয়ানে লিখে দেয়। আমি সেখান থেকে বাংলা উচ্চরনে লিখে নিয়ে মুখস্ত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেমিনার দিতে উঠে প্রথম দু'লাইন ছাড়া না দেখে কিছুই বলতে পারি নি।

সেমিনার ব্যাপারটাই একটা pain. প্রত্যেক PhD student কে প্রথম দুই বছরে দুইটা সেমিনার প্রেজেন্ট করতে হয়। সাধারণত ২য় এবং ৪র্থ সেমিস্টারেই প্রেজেন্ট করতে হয়। প্রথমটা ইংলিশে দেয়া যায় কিন্তু পরেরটা কোরিয়ানে দেয়া বাধ্যতামূলক। আমি ২য় সেমিস্টারে প্রেজন্ট করে ভেবেছিলাম দুইটা সেমিস্টার নিশ্চিন্ত থাকব। কিন্তু অদ্ভুতভাবে আমার কোরিয়ান প্রেজেন্টেশন ৩য় সেমিস্টারে পড়ে যায়। এর পেছনে আমার প্রফেসরের হাত থাকতে পারে। এই সেমিস্টারে তিনি সেমিনারের সঞ্চালক ছিলেন। সেকারনে হয়ত আমার প্রেজেন্টেশন এই সেমিস্টারে ফেলেছেন। এতে এক দিক দিয়ে ভালোই হয়েছে। ঝামেলা শেষ হয়েছে। আপনাদের জন্য আমার প্রেজেন্টেশনের প্রথম দু'লাইন:
"আননিয়ং হাশমিকা। ঝনন ঝংসংহোয়া কিয়োসুনিমই ঝিদোরুল ভাতগোইতনাম ইমতিয়াজ আহমেদ ইমনিদা।"

বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১২

২০১২-১১-২১: সাধারণ একটা দিন

আগামী ২৮ তারিখে কোরিয়ান ভাষায় একটা সেমিনার দিতে হবে। আজে সেটা মোটামুটি ফাইনালাইজ করলাম। আগামীকাল কোরিয়ান ল্যাব মেম্বারের কাছ থেকে স্পীচটা translate করে নিতে হবে। আগে থেকে প্রিপারেশন না নিয়ে রাখলে সেমিনারের দিন ঝামেলা হয়ে যেতে পারে।
আজ সারাদিন তেমন কোনো কাজই করতে পারি নি। আজ কিছু পেপার স্টাডি করার প্ল্যান ছিল কিন্তু পড়ায় মন বসাতে পারিনি। এর মধ্যে খুলনা টেস্টও শুরু হল আজ। লাঞ্চের পর খেলা দেখা বন্ধ করে দিয়েছিলাম বাংলাদেশ দলের শোচনীয় অবস্থা দেখে। তবে চা বিরতির পর আবার শুরু করলাম। আবুল হাসানের debut century দারুন উপভোগ্য ছিল। আজ সন্ধ্যায়ও মোবাইলের খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম। এখনও টাকা পরিশোধ করা হয় নি। কোরিয়ান ল্যাবমেটকে জানালাম সে কথা। আগামীকাল এই ব্যাপারটা এবং আমার কোরিয়ান সেমিনারের ঝামেলাটা ফিক্স করা হবে বলে সে আশ্বাস দিল।
আজ বিজ্ঞানব্লগের কিছু কাজ করেছি। একটা ইমেইল আইডি খুলেছি বিজ্ঞানব্লগের ডোমেইনে। এখান থেকে লেখক ওসদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হবে। এছাড়া একটা পোস্ট এডিট করে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথমবারের মত বিজ্ঞানব্লগের ব্যাকআপ নেয়া হয়েছে।

২০১২-১১-২০: মুড অফ

আজ সকালে প্রফেসরের মেইল পেলাম। তিনি আমার কয়েক সাপ্তাহের কাজ পর্যালোচনা করে দেখেছেন কাজে যথেষ্ট অগ্রগতি নেই, কাজের পরিমানও কম, আমি অলসতা করছি, আগের কাজে দিন দিন কাজের হার কমে যাচ্ছে এইসব লিখলেন। এই ধরনের মেইল প্রথম দিকে যে ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করত এখন আর তেমন করে না। তবুও সারদিন মনের মধ্যে কিছুটা গুমোট ভাব ছিল। আজ সারাদিন ল্যাবে প্রচুর এক্সপেরিমেন্টাল কাজ করতে হল। আজই না করলে সামনের সাপ্তায় রিপোর্ট দেয়া যাবে না। এমন কর্মক্ষম কোনো দিন এখন পর্যন্ত কোরিয়াতে কাটিয়েছি কিনা মনে পড়ে না। সকালের মেইলের একটা প্রভাবও এর মধ্যে থাকতে পারে। এই ধরনের মেইল নাজমুল ভাইও পেয়েছেন।

২০১২-১১-১৯: ল্যাব মিটিং এবং ঝামেলা

ল্যাব মিটিংএর বৈতরনী সহজেই পার হওয়া গেল। সারাদিন কাটল শিথীলভাবে, সোমবার যেভাবে কাটে। বিকেলে ফোনের দোকানে খোঁজ নিতে গেলাম আমার টাকা পরিশোধ করা হল কিনা খোঁজ নিতে। টাকা পরিশোধ হয় নি! এই জিনিসটা কতদিন ভোগায় কে জানে।

২০১২-১১-১৮: জন্মদিন

আজ আমার ২৮ তম জন্মদিন। ১৯৮৪ সালের এই দিনে আমার জন্ম হয়েছিল। প্রবাসে এটা আমার দ্বিতীয় জন্মদিন।
রাত বারোটার পরই ব্যাচেলর গ্রুপ আমায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালো। তাদের নিয়ে রেস্টুরেন্টে চিকেনফ্রাই খেয়ে এলাম। এর পরপরই আমার এক ল্যাবমেটের বাসায় প্রথম কেক কাটলাম আর নাস্তা করলাম। ভরপেট খেয়ে ঘুমাতে গেলাম। সকালে কিছুক্ষণ ল্যাবে কাটালাম। দুপুরে গিয়েছিলাম ইয়াংনাম ইউনিভার্সিটিতে। এই ভার্সিটিটা দেগু মূল শহরের বাইরে এবং বিশাল এলাকা নিয়ে। এই একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। সারাটা বিকাল এখানে ঘুরলাম, কোরিয়ান গ্রামের মডেল দেখলাম, একপাশে বনসংলগ্ন এলাকায় একটা হরিনের ও দেখা মিলল। এরপর সন্ধ্যায় এক বাঙ্গালি ভাইয়ের বাসায় দাওয়াত খেলাম। তিনি আমার ভার্সিটিতেই পোস্টডক করছেন কিন্তু তাঁর স্ত্রী এখানকার মাস্টার্সের ছাত্রী তাই তাকে এখান থেকেই বাসে বা সাবওয়েতে ভার্সিটিতে যাতায়াত করতে হয়। এখান থেকে ফিরে বাসায় গিয়ে আরেকপ্রস্থ কেক কাটা হল। এই বিশাল আয়োজনের মধ্য দিয়ে জন্মদিন এবারই প্রথম।

রাতে ল্যাবে ফিরে আসতে হয়েছিল কারন পরদিনই ল্যাব মিটিং। ল্যাব রিপোর্ট তৈরি করতে হবে।

2012-11-17: পাঁচমিশালি

বিজ্ঞানব্লগে আজ অনেকগুলো পোস্ট এসেছে সেগুলো পড়লাম আর ফেসবুকে শেয়ার দিলাম। বিশেষ কিছু আসলে এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তিন-চার দিনের জমানো ফিরিস্তি লিখতে বসেছি।

শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১২

2012-11-16: মোবাইল সমস্যার সেমি সমাধান

আজ লাঞ্চের পর আমি, কোরিয়ান ল্যাবমেট ঝংওউন জুন এবং নাজমুলভাই মিলে ডাউনটাউন গেলাম মোবাইলের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়ার জন্য। ঝংওউন আগেই ফোন করে খোঁজ-খবর নিয়ে এই ঠিকানা জোগাড় করেছে। এটাও একটা LG-এজেন্সী। এই দোকানে ঢুকেই সেই লোকটিকে দেখতে পেলাম যার কাছ থেকে মোবাইল কিনেছি। আমাদের দেখে সে একটু আড়ালে আড়ালে থাকার চেষ্টা করল। আমি কিছুক্ষণ দেখার পর নিশ্চিত হলাম এই সেই লোক। (কোরিয়ানদের সবার চেহারা একই রকম লাগে)। ডেস্কে অপর একজন লোকের সাথে ঝংওউনের বেশ কিছুক্ষণ কথা-বার্তা হল। তাকে দেখে অসন্তুষ্ট মনে হল। আমি হালকা ভয় পেলাম। কারন আমাদের মধ্যে কথা হয়েছিল টাকা আদায়ের ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি না হলে পুলিশ স্টেশনে যাব। তবে কথাবার্তা শেষ হওয়ার পর যখন বের হয়ে এলাম তখন সে বলল তারা টাকা ফেরত দিতে রাজি হয়েছে। সোমবারে আমার টাকা পরিশোধ করে দেয়া হবে কারন মাঝখানে সাপ্তাহিক ছুটি। তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে। তবে টাকাটা যে তারাই নিয়েছে এটা স্বীকার করেনি। বলেছে অন্য কোনো বিদেশী আমার আইডি নিয়ে এসে টাকা তুলে নিয়ে গেছে!

এরপর সে LG এর কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে বিস্তারিত অভিযোগ করল। এদের শাস্তির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করল। আমি আপতত টাকা উদ্ধার করতে পারলেই খুশি। বললাম আগে টাকাটা জমা হোক তারপর যা করার করি। সে রাজী হল না। বলল আজই গিয়ে লিখিত অভিযোগ করে আসবে। রওনা দেয়ার কিছুক্ষণ পরে সে বলল এখন যাবে না । সে খুব টায়ার্ড। কিছুক্ষণ পর যাবে। কিছুক্ষণ পরও আর যাওয়া হল না। আজ আর যাওয়াই হল না। ভাবগতিক দেখে মনে হচ্ছে আগামীকালও যাওয়া হবে না।

২০১২-১১-১৫: রুটিন কাজ

আজ যদিও মোবাইলের ব্যপারে একটা মীমাংসা করার কথা ছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত যাওয়া হয়নি।্আগামীকাল যাওয়ার সম্ভবনা আছে। আজ সন্ধায় ল্যাব ক্লীনিং নিয়ে ল্যাবে একটু ঝামেলা হয়ে গেছে তবে শেষ পর্যন্ত খুব সমস্যা ছাড়াই ঝামেলা মিটেছে। বিস্তারিত না বলাই ভালো।

2012-11-14: মোবাইল ঘটিত সমস্যা continued

আজ সন্ধ্যার দিকে আমার মোবাইল ঘটিত সমস্যার কথা বিস্তারিত আমাদের কোরিয়ান ল্যাব মেম্বারকে বলা হয়েছে। বিস্তারিত শুনে সে তৎক্ষণাৎ আমাকে এবং নাজমুলভাইকে নিয়ে সেই দোকানে ছুটল। সেই দোকানে কথা বলে যা জানা গেল:
* আমার মোবাইল কেনা এবং লাইন নেয়ার সময় যখন আইডি দেখানো হয়েছিল সেই আইডির একটা কপি তৎকালীন সেলসম্যান কপি করে রেখে দেয়।(ধারনা)
* সেই আইডির কপি ব্যবহার করে আমার ফোন একাউন্ট থেকে > ৪০০,০০০ ওউন তুলে নেয়া হয়। (কোরিয়ানে মোবাইল ফোন একাউন্ট থেকে এডভান্স টাকা তোলার ব্যবস্থা আছে)।
* সেই টাকা যথাসময়ে ফেরত না দেয়ায় আমার মোবাইল ফোনটিকে ইনএক্টিভ করা হয়। আমি আমার ফোনসেট চেঞ্জ করে নম্বরটি ব্যবহার করতে থাকি। একপর্যায়ে সেটাও ইনএক্টিভ করা হয়।
* এই কাজটি যে করেছে সে সম্ভবত মনে করেছে আমি এই ব্যাপারে কোন claim করতে পারব না কিংবা আমি ব্যপারটা জানতেও পারব না এবং আমাকে যখন দেশে যাওয়ার পথে এয়ারপোর্টে ধরবে তখন সেখানে পরিশোধ করতে বাধ্য হব।(বিদেশীরা যখন কোরিয়া ত্যাগ করে তখন কোরিয়াতে থাকাকালীন তার বকেয়া চেক করা হয় এবং সেটা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়। সবই ডিজিটাল সিস্টেম)।

রাত হয়ে যাওয়ায় সেদিনের মত আর কিছু করা সম্ভব হয় নি। ঠিক হল পরদিন সেই কোরিয়ান ল্যাব মেম্বার সহ আরো দুইজন এবং আমি এইব্যাপারে খোঁজ করে ব্যবস্থা নিব। কিছুটা আস্বস্ত হলাম।

মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১২

2012-11-13: কোর্স এসাইনমেন্ট

একটা কোর্সের এসাইনমেন্ট নিয়ে সারাটাদিন ব্যস্ত থেকেছি। Topic হলো nanoceramics. খুবই জঘন্য একটা বিষয়। ইন্টারনেট ঘেটে তেমন কিছু পেলাম না। অধিকাংশই একটা বই থেকে কপি-পেস্ট মেরে দিয়েছি। Assignment, reassign করা হয় কিনা কে জানে।

2012-11-12: ল্যাব মিটিং

সোমবারের আতঙ্ক ল্যাবমিটিং ভালোভাবেই পার করলাম। সাধারণ একটা দিন পার হল। আজ আমার দুই রুমমেটের পিএইচডি ডিফেন্স ছিল। এই উপলক্ষ্যে তাদের কাছ থেকে সন্ধ্যায় পার্টি আদায় করেছি। আদায় বলতে রেস্টুরেন্টে গিয়ে চিকেন ফ্রাই খেয়ে তাদের নামে বিল করে দিয়েছি! তারা সেই সময় প্রফেসরদের আপ্যায়নে ব্যস্ত ছিলেন।

কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটা রেওয়াজ আছে। ডিগ্রি প্রার্থীদের একটা নির্দিষ্ট দিনে ডিফেন্স হয়। ডিফেন্স শেষে প্রফেসরদের নিয়ে যেতে হয় রেস্টুরেন্টে। যেনতেন রেস্টুরেন্টে নয়, একেবারে প্রথম সারির রেস্টুরেন্টে। যেই বার ছাত্র-ছাত্রী বেশী থাকে সেইবারে একেকজনের ভাগে খরচের পরিমান কম পড়ে। তবে আসল খরচটা আসে আরো পরে। একেকজন ছাত্রের বা ছাত্রীর ডিগ্রির জন্য পাঁচজন প্রফেসরের একটা গ্রুপ থাকে। মুল ডিফেন্সের পর এককভাবে এই গ্রুপের কাছে ভাইভা দিতে হয়। এবং যথারীতি ভাইবার পর প্রফেসরদের খাওয়াতে নিয়ে যেতে হয়। সেই সিটিংও হয় আবার একাধিক!

সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১২

12-11-11: আজ সাপ্তাহিক ছুটি

আজ সাপ্তাহিক ছুটি তাই সকাল সকাল উঠেই ল্যাবে চলে গেলাম। সেখানে সারাদিন কাজ করলাম, সোমবারের জন্য ল্যাব রিপোর্ট তৈরি করলাম এরপর রাত আটটায় বাসায় ফিরে এলাম। চমৎকার একটা ছুটি কাটল!

শনিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১২

12-11-10: Paper accepted একটা শুভ দিন।

আজ দিন শুরু হয়েছে একটা অতি সুখবর দিয়ে। সকালে এসেই মেইল চেক করে দেখি আমার দ্বিতীয় paper, CrystalGrowthDesign এ accept হয়েছে। দুপুরে আরেকটা! যদিও এটাতে আমি তৃতীয় author. এটা হলো Applied Catalysis:A তে। অতি সফল একটা দিন।

বিকালে হালকা নাস্তা করতে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু সবগুলো স্ন্যাকসের দোকান বন্ধ ছিল। আজকে শনিবার কি না! তবে এতে একটা বড় লাভ হয়েছে। একটা সস্তা রেস্টুরেন্ট ছিলো যেটাকে অনেকদিন ধরে ঢুকি ঢুকি করে ঢোকা হয় নি। আমার সাথে আমার ল্যাবমেট সানি ভাই ছিলেন। এখানে ঢুকে ঝিমতাক খেলাম মাত্র ৪০০০ ওউনে।  সেই সাথে side dish ছিলো অনেকগুলো। সাথে একটা বড় আয়তনের স্যুপ। ভাবা যায় না! খাবারের মান মাঝামাঝি। আমারা দুজনে খেয়ে পেট ভরে গেছে। এই রেস্টুরেন্টে আরো অনেকবার আসতে হবে। এখানকার সবগুলো ডিশ ৪০০০ করে। কয়েকটার ছবি দেখে লোভ লেগেছে।

সন্ধ্যায় নতুন বাড়িওয়ালার কাছ থেকে চাবি নিয়ে এসেছি। আমার দুইজনের রুমমেটের কোর্স শেষ এই সেমিস্টারে। কাজেই এই বাসাটা ছেড়ে দিতে হবে। আগামীমাস থেকেই নতুন বাসায় উঠছি। এই বাসাটা মোটামুটি আমার প্রথম বাসার মতোই। আপাততঃ একাই উঠছি।

আজ রাতে গৌতমঘোষের মনের মানুষ দেখলাম। ছবিটার সিনেমাটোগ্রাফি যথেষ্ট চমৎকার ছিলো। তবে এই ছবিটি ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে অভিযুক্ত, যদিও আমি লালনের জীবনী সম্পর্কে জানি না।

শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১২

12-11-09: ওপেন বুক পরীক্ষা

আজ ওপেনবুক পরীক্ষা দিয়েছি, বেশ ভালোই। প্রফেসরের মেইলের রিপ্লাই পেয়েছি (গতকাল রাতে যেটা লিখেছিলাম), গতানুগতিক। আজ গোসল করার পরিকল্পনা (!) আছে। আগামীকাল একটা ভয়ঙ্কর দিন যেতে পারে। প্রস্তুত থাকার চেষ্টা করছি।

বৃহস্পতিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১২

12-11-08: প্রতারণার কোরিয়ান উপায়

একটা দুঃখজনক ঘটনার মধ্য দিয়ে ডায়েরী জীবন শুরু করছি। মন্দের ভালো বলা যায়। ঘটনাটি ঘটার কারনেই ডায়েরী লেখার চিন্তা মাথায় এলো।

কয়েকমাস আগে একটা পুরোনো স্মার্টফোন কিনেছিলাম। সেই সাথে একটা ফোন লাইনও নিয়েছিলাম। কিন্তু সেটটি সম্ভবত বিক্রেতা নিজেই ব্যবহার করছিল এবং সেটটি সে কিনেছিলো কিস্তিতে। কিস্তির সামান্য পরিমান পরিশোধ করেই সে সেটটি আমার কাছে বিক্রি করে দেয় এবং আমার একাউন্টে বকেয়ার পরিমান জমতে থাকে। আমি এর কিছু্‌ই জানিনা। কিছুদিন আগে আমার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। আজ সংযোগ নিতে গিয়ে এই ঘটনা জানতে পারলাম। বকেয়ার ব্যপারে একটা সমাধান না করা পর্যন্ত নতুন লাইন নেয়া যাবে না। সেই সমাধান যদি হয় সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ, তাহলে আমার খবর আছে! প্রায় ৪,৬০০০০ ওউন পরিশোধ করতে হবে যা কিছুদিন আগেও আমার একমাসের বেতনের কাছাকাছি ছিলো। কোরিয়াতে এসে প্রথমবারের মত বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হলাম (সম্ভবত)।

প্রফেসরকে দেশে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলাম। প্রফেসর খুবএকটা রাজি নন। তিনি ইমেইলের মাধ্যমে আমার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহবান জানিয়েছেন। আমি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছি। দেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এক সেমিস্টার পিছিয়েছি। সেটা এখন প্রফেসরকে গুছিয়ে লিখে ইমেইলের মাধ্যমে জানানোর চেষ্টা করছি।

আগামীকাল ওপেনবুক পরীক্ষা। আজ একটা ক্লোজড বুক পরীক্ষা ছিলো। যাচ্ছেতাই পরীক্ষা দিয়েছি।