বৃহস্পতিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১২

২০১২-১১-২৮: কোরিয়ান সেমিনার

আজ বিকাল পাঁচটায় কোরিয়ানে সেমিনার প্রেজেন্টেশন দিলাম। স্লাইড বানানোর পর প্রতিটা স্লাইডে কি বলব সেটা কোরিয়ান ল্যাব মেটকে বুঝিয়ে বলার পর সে সেগুলোকে কোরিয়ানে লিখে দেয়। আমি সেখান থেকে বাংলা উচ্চরনে লিখে নিয়ে মুখস্ত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেমিনার দিতে উঠে প্রথম দু'লাইন ছাড়া না দেখে কিছুই বলতে পারি নি।

সেমিনার ব্যাপারটাই একটা pain. প্রত্যেক PhD student কে প্রথম দুই বছরে দুইটা সেমিনার প্রেজেন্ট করতে হয়। সাধারণত ২য় এবং ৪র্থ সেমিস্টারেই প্রেজেন্ট করতে হয়। প্রথমটা ইংলিশে দেয়া যায় কিন্তু পরেরটা কোরিয়ানে দেয়া বাধ্যতামূলক। আমি ২য় সেমিস্টারে প্রেজন্ট করে ভেবেছিলাম দুইটা সেমিস্টার নিশ্চিন্ত থাকব। কিন্তু অদ্ভুতভাবে আমার কোরিয়ান প্রেজেন্টেশন ৩য় সেমিস্টারে পড়ে যায়। এর পেছনে আমার প্রফেসরের হাত থাকতে পারে। এই সেমিস্টারে তিনি সেমিনারের সঞ্চালক ছিলেন। সেকারনে হয়ত আমার প্রেজেন্টেশন এই সেমিস্টারে ফেলেছেন। এতে এক দিক দিয়ে ভালোই হয়েছে। ঝামেলা শেষ হয়েছে। আপনাদের জন্য আমার প্রেজেন্টেশনের প্রথম দু'লাইন:
"আননিয়ং হাশমিকা। ঝনন ঝংসংহোয়া কিয়োসুনিমই ঝিদোরুল ভাতগোইতনাম ইমতিয়াজ আহমেদ ইমনিদা।"

বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১২

২০১২-১১-২১: সাধারণ একটা দিন

আগামী ২৮ তারিখে কোরিয়ান ভাষায় একটা সেমিনার দিতে হবে। আজে সেটা মোটামুটি ফাইনালাইজ করলাম। আগামীকাল কোরিয়ান ল্যাব মেম্বারের কাছ থেকে স্পীচটা translate করে নিতে হবে। আগে থেকে প্রিপারেশন না নিয়ে রাখলে সেমিনারের দিন ঝামেলা হয়ে যেতে পারে।
আজ সারাদিন তেমন কোনো কাজই করতে পারি নি। আজ কিছু পেপার স্টাডি করার প্ল্যান ছিল কিন্তু পড়ায় মন বসাতে পারিনি। এর মধ্যে খুলনা টেস্টও শুরু হল আজ। লাঞ্চের পর খেলা দেখা বন্ধ করে দিয়েছিলাম বাংলাদেশ দলের শোচনীয় অবস্থা দেখে। তবে চা বিরতির পর আবার শুরু করলাম। আবুল হাসানের debut century দারুন উপভোগ্য ছিল। আজ সন্ধ্যায়ও মোবাইলের খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম। এখনও টাকা পরিশোধ করা হয় নি। কোরিয়ান ল্যাবমেটকে জানালাম সে কথা। আগামীকাল এই ব্যাপারটা এবং আমার কোরিয়ান সেমিনারের ঝামেলাটা ফিক্স করা হবে বলে সে আশ্বাস দিল।
আজ বিজ্ঞানব্লগের কিছু কাজ করেছি। একটা ইমেইল আইডি খুলেছি বিজ্ঞানব্লগের ডোমেইনে। এখান থেকে লেখক ওসদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হবে। এছাড়া একটা পোস্ট এডিট করে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথমবারের মত বিজ্ঞানব্লগের ব্যাকআপ নেয়া হয়েছে।

২০১২-১১-২০: মুড অফ

আজ সকালে প্রফেসরের মেইল পেলাম। তিনি আমার কয়েক সাপ্তাহের কাজ পর্যালোচনা করে দেখেছেন কাজে যথেষ্ট অগ্রগতি নেই, কাজের পরিমানও কম, আমি অলসতা করছি, আগের কাজে দিন দিন কাজের হার কমে যাচ্ছে এইসব লিখলেন। এই ধরনের মেইল প্রথম দিকে যে ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করত এখন আর তেমন করে না। তবুও সারদিন মনের মধ্যে কিছুটা গুমোট ভাব ছিল। আজ সারাদিন ল্যাবে প্রচুর এক্সপেরিমেন্টাল কাজ করতে হল। আজই না করলে সামনের সাপ্তায় রিপোর্ট দেয়া যাবে না। এমন কর্মক্ষম কোনো দিন এখন পর্যন্ত কোরিয়াতে কাটিয়েছি কিনা মনে পড়ে না। সকালের মেইলের একটা প্রভাবও এর মধ্যে থাকতে পারে। এই ধরনের মেইল নাজমুল ভাইও পেয়েছেন।

২০১২-১১-১৯: ল্যাব মিটিং এবং ঝামেলা

ল্যাব মিটিংএর বৈতরনী সহজেই পার হওয়া গেল। সারাদিন কাটল শিথীলভাবে, সোমবার যেভাবে কাটে। বিকেলে ফোনের দোকানে খোঁজ নিতে গেলাম আমার টাকা পরিশোধ করা হল কিনা খোঁজ নিতে। টাকা পরিশোধ হয় নি! এই জিনিসটা কতদিন ভোগায় কে জানে।

২০১২-১১-১৮: জন্মদিন

আজ আমার ২৮ তম জন্মদিন। ১৯৮৪ সালের এই দিনে আমার জন্ম হয়েছিল। প্রবাসে এটা আমার দ্বিতীয় জন্মদিন।
রাত বারোটার পরই ব্যাচেলর গ্রুপ আমায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালো। তাদের নিয়ে রেস্টুরেন্টে চিকেনফ্রাই খেয়ে এলাম। এর পরপরই আমার এক ল্যাবমেটের বাসায় প্রথম কেক কাটলাম আর নাস্তা করলাম। ভরপেট খেয়ে ঘুমাতে গেলাম। সকালে কিছুক্ষণ ল্যাবে কাটালাম। দুপুরে গিয়েছিলাম ইয়াংনাম ইউনিভার্সিটিতে। এই ভার্সিটিটা দেগু মূল শহরের বাইরে এবং বিশাল এলাকা নিয়ে। এই একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। সারাটা বিকাল এখানে ঘুরলাম, কোরিয়ান গ্রামের মডেল দেখলাম, একপাশে বনসংলগ্ন এলাকায় একটা হরিনের ও দেখা মিলল। এরপর সন্ধ্যায় এক বাঙ্গালি ভাইয়ের বাসায় দাওয়াত খেলাম। তিনি আমার ভার্সিটিতেই পোস্টডক করছেন কিন্তু তাঁর স্ত্রী এখানকার মাস্টার্সের ছাত্রী তাই তাকে এখান থেকেই বাসে বা সাবওয়েতে ভার্সিটিতে যাতায়াত করতে হয়। এখান থেকে ফিরে বাসায় গিয়ে আরেকপ্রস্থ কেক কাটা হল। এই বিশাল আয়োজনের মধ্য দিয়ে জন্মদিন এবারই প্রথম।

রাতে ল্যাবে ফিরে আসতে হয়েছিল কারন পরদিনই ল্যাব মিটিং। ল্যাব রিপোর্ট তৈরি করতে হবে।

2012-11-17: পাঁচমিশালি

বিজ্ঞানব্লগে আজ অনেকগুলো পোস্ট এসেছে সেগুলো পড়লাম আর ফেসবুকে শেয়ার দিলাম। বিশেষ কিছু আসলে এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তিন-চার দিনের জমানো ফিরিস্তি লিখতে বসেছি।

শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১২

2012-11-16: মোবাইল সমস্যার সেমি সমাধান

আজ লাঞ্চের পর আমি, কোরিয়ান ল্যাবমেট ঝংওউন জুন এবং নাজমুলভাই মিলে ডাউনটাউন গেলাম মোবাইলের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়ার জন্য। ঝংওউন আগেই ফোন করে খোঁজ-খবর নিয়ে এই ঠিকানা জোগাড় করেছে। এটাও একটা LG-এজেন্সী। এই দোকানে ঢুকেই সেই লোকটিকে দেখতে পেলাম যার কাছ থেকে মোবাইল কিনেছি। আমাদের দেখে সে একটু আড়ালে আড়ালে থাকার চেষ্টা করল। আমি কিছুক্ষণ দেখার পর নিশ্চিত হলাম এই সেই লোক। (কোরিয়ানদের সবার চেহারা একই রকম লাগে)। ডেস্কে অপর একজন লোকের সাথে ঝংওউনের বেশ কিছুক্ষণ কথা-বার্তা হল। তাকে দেখে অসন্তুষ্ট মনে হল। আমি হালকা ভয় পেলাম। কারন আমাদের মধ্যে কথা হয়েছিল টাকা আদায়ের ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি না হলে পুলিশ স্টেশনে যাব। তবে কথাবার্তা শেষ হওয়ার পর যখন বের হয়ে এলাম তখন সে বলল তারা টাকা ফেরত দিতে রাজি হয়েছে। সোমবারে আমার টাকা পরিশোধ করে দেয়া হবে কারন মাঝখানে সাপ্তাহিক ছুটি। তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে। তবে টাকাটা যে তারাই নিয়েছে এটা স্বীকার করেনি। বলেছে অন্য কোনো বিদেশী আমার আইডি নিয়ে এসে টাকা তুলে নিয়ে গেছে!

এরপর সে LG এর কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে বিস্তারিত অভিযোগ করল। এদের শাস্তির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করল। আমি আপতত টাকা উদ্ধার করতে পারলেই খুশি। বললাম আগে টাকাটা জমা হোক তারপর যা করার করি। সে রাজী হল না। বলল আজই গিয়ে লিখিত অভিযোগ করে আসবে। রওনা দেয়ার কিছুক্ষণ পরে সে বলল এখন যাবে না । সে খুব টায়ার্ড। কিছুক্ষণ পর যাবে। কিছুক্ষণ পরও আর যাওয়া হল না। আজ আর যাওয়াই হল না। ভাবগতিক দেখে মনে হচ্ছে আগামীকালও যাওয়া হবে না।

২০১২-১১-১৫: রুটিন কাজ

আজ যদিও মোবাইলের ব্যপারে একটা মীমাংসা করার কথা ছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত যাওয়া হয়নি।্আগামীকাল যাওয়ার সম্ভবনা আছে। আজ সন্ধায় ল্যাব ক্লীনিং নিয়ে ল্যাবে একটু ঝামেলা হয়ে গেছে তবে শেষ পর্যন্ত খুব সমস্যা ছাড়াই ঝামেলা মিটেছে। বিস্তারিত না বলাই ভালো।