শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১২

2012-11-14: মোবাইল ঘটিত সমস্যা continued

আজ সন্ধ্যার দিকে আমার মোবাইল ঘটিত সমস্যার কথা বিস্তারিত আমাদের কোরিয়ান ল্যাব মেম্বারকে বলা হয়েছে। বিস্তারিত শুনে সে তৎক্ষণাৎ আমাকে এবং নাজমুলভাইকে নিয়ে সেই দোকানে ছুটল। সেই দোকানে কথা বলে যা জানা গেল:
* আমার মোবাইল কেনা এবং লাইন নেয়ার সময় যখন আইডি দেখানো হয়েছিল সেই আইডির একটা কপি তৎকালীন সেলসম্যান কপি করে রেখে দেয়।(ধারনা)
* সেই আইডির কপি ব্যবহার করে আমার ফোন একাউন্ট থেকে > ৪০০,০০০ ওউন তুলে নেয়া হয়। (কোরিয়ানে মোবাইল ফোন একাউন্ট থেকে এডভান্স টাকা তোলার ব্যবস্থা আছে)।
* সেই টাকা যথাসময়ে ফেরত না দেয়ায় আমার মোবাইল ফোনটিকে ইনএক্টিভ করা হয়। আমি আমার ফোনসেট চেঞ্জ করে নম্বরটি ব্যবহার করতে থাকি। একপর্যায়ে সেটাও ইনএক্টিভ করা হয়।
* এই কাজটি যে করেছে সে সম্ভবত মনে করেছে আমি এই ব্যাপারে কোন claim করতে পারব না কিংবা আমি ব্যপারটা জানতেও পারব না এবং আমাকে যখন দেশে যাওয়ার পথে এয়ারপোর্টে ধরবে তখন সেখানে পরিশোধ করতে বাধ্য হব।(বিদেশীরা যখন কোরিয়া ত্যাগ করে তখন কোরিয়াতে থাকাকালীন তার বকেয়া চেক করা হয় এবং সেটা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়। সবই ডিজিটাল সিস্টেম)।

রাত হয়ে যাওয়ায় সেদিনের মত আর কিছু করা সম্ভব হয় নি। ঠিক হল পরদিন সেই কোরিয়ান ল্যাব মেম্বার সহ আরো দুইজন এবং আমি এইব্যাপারে খোঁজ করে ব্যবস্থা নিব। কিছুটা আস্বস্ত হলাম।

মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১২

2012-11-13: কোর্স এসাইনমেন্ট

একটা কোর্সের এসাইনমেন্ট নিয়ে সারাটাদিন ব্যস্ত থেকেছি। Topic হলো nanoceramics. খুবই জঘন্য একটা বিষয়। ইন্টারনেট ঘেটে তেমন কিছু পেলাম না। অধিকাংশই একটা বই থেকে কপি-পেস্ট মেরে দিয়েছি। Assignment, reassign করা হয় কিনা কে জানে।

2012-11-12: ল্যাব মিটিং

সোমবারের আতঙ্ক ল্যাবমিটিং ভালোভাবেই পার করলাম। সাধারণ একটা দিন পার হল। আজ আমার দুই রুমমেটের পিএইচডি ডিফেন্স ছিল। এই উপলক্ষ্যে তাদের কাছ থেকে সন্ধ্যায় পার্টি আদায় করেছি। আদায় বলতে রেস্টুরেন্টে গিয়ে চিকেন ফ্রাই খেয়ে তাদের নামে বিল করে দিয়েছি! তারা সেই সময় প্রফেসরদের আপ্যায়নে ব্যস্ত ছিলেন।

কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটা রেওয়াজ আছে। ডিগ্রি প্রার্থীদের একটা নির্দিষ্ট দিনে ডিফেন্স হয়। ডিফেন্স শেষে প্রফেসরদের নিয়ে যেতে হয় রেস্টুরেন্টে। যেনতেন রেস্টুরেন্টে নয়, একেবারে প্রথম সারির রেস্টুরেন্টে। যেই বার ছাত্র-ছাত্রী বেশী থাকে সেইবারে একেকজনের ভাগে খরচের পরিমান কম পড়ে। তবে আসল খরচটা আসে আরো পরে। একেকজন ছাত্রের বা ছাত্রীর ডিগ্রির জন্য পাঁচজন প্রফেসরের একটা গ্রুপ থাকে। মুল ডিফেন্সের পর এককভাবে এই গ্রুপের কাছে ভাইভা দিতে হয়। এবং যথারীতি ভাইবার পর প্রফেসরদের খাওয়াতে নিয়ে যেতে হয়। সেই সিটিংও হয় আবার একাধিক!

সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১২

12-11-11: আজ সাপ্তাহিক ছুটি

আজ সাপ্তাহিক ছুটি তাই সকাল সকাল উঠেই ল্যাবে চলে গেলাম। সেখানে সারাদিন কাজ করলাম, সোমবারের জন্য ল্যাব রিপোর্ট তৈরি করলাম এরপর রাত আটটায় বাসায় ফিরে এলাম। চমৎকার একটা ছুটি কাটল!

শনিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১২

12-11-10: Paper accepted একটা শুভ দিন।

আজ দিন শুরু হয়েছে একটা অতি সুখবর দিয়ে। সকালে এসেই মেইল চেক করে দেখি আমার দ্বিতীয় paper, CrystalGrowthDesign এ accept হয়েছে। দুপুরে আরেকটা! যদিও এটাতে আমি তৃতীয় author. এটা হলো Applied Catalysis:A তে। অতি সফল একটা দিন।

বিকালে হালকা নাস্তা করতে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু সবগুলো স্ন্যাকসের দোকান বন্ধ ছিল। আজকে শনিবার কি না! তবে এতে একটা বড় লাভ হয়েছে। একটা সস্তা রেস্টুরেন্ট ছিলো যেটাকে অনেকদিন ধরে ঢুকি ঢুকি করে ঢোকা হয় নি। আমার সাথে আমার ল্যাবমেট সানি ভাই ছিলেন। এখানে ঢুকে ঝিমতাক খেলাম মাত্র ৪০০০ ওউনে।  সেই সাথে side dish ছিলো অনেকগুলো। সাথে একটা বড় আয়তনের স্যুপ। ভাবা যায় না! খাবারের মান মাঝামাঝি। আমারা দুজনে খেয়ে পেট ভরে গেছে। এই রেস্টুরেন্টে আরো অনেকবার আসতে হবে। এখানকার সবগুলো ডিশ ৪০০০ করে। কয়েকটার ছবি দেখে লোভ লেগেছে।

সন্ধ্যায় নতুন বাড়িওয়ালার কাছ থেকে চাবি নিয়ে এসেছি। আমার দুইজনের রুমমেটের কোর্স শেষ এই সেমিস্টারে। কাজেই এই বাসাটা ছেড়ে দিতে হবে। আগামীমাস থেকেই নতুন বাসায় উঠছি। এই বাসাটা মোটামুটি আমার প্রথম বাসার মতোই। আপাততঃ একাই উঠছি।

আজ রাতে গৌতমঘোষের মনের মানুষ দেখলাম। ছবিটার সিনেমাটোগ্রাফি যথেষ্ট চমৎকার ছিলো। তবে এই ছবিটি ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে অভিযুক্ত, যদিও আমি লালনের জীবনী সম্পর্কে জানি না।

শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১২

12-11-09: ওপেন বুক পরীক্ষা

আজ ওপেনবুক পরীক্ষা দিয়েছি, বেশ ভালোই। প্রফেসরের মেইলের রিপ্লাই পেয়েছি (গতকাল রাতে যেটা লিখেছিলাম), গতানুগতিক। আজ গোসল করার পরিকল্পনা (!) আছে। আগামীকাল একটা ভয়ঙ্কর দিন যেতে পারে। প্রস্তুত থাকার চেষ্টা করছি।

বৃহস্পতিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১২

12-11-08: প্রতারণার কোরিয়ান উপায়

একটা দুঃখজনক ঘটনার মধ্য দিয়ে ডায়েরী জীবন শুরু করছি। মন্দের ভালো বলা যায়। ঘটনাটি ঘটার কারনেই ডায়েরী লেখার চিন্তা মাথায় এলো।

কয়েকমাস আগে একটা পুরোনো স্মার্টফোন কিনেছিলাম। সেই সাথে একটা ফোন লাইনও নিয়েছিলাম। কিন্তু সেটটি সম্ভবত বিক্রেতা নিজেই ব্যবহার করছিল এবং সেটটি সে কিনেছিলো কিস্তিতে। কিস্তির সামান্য পরিমান পরিশোধ করেই সে সেটটি আমার কাছে বিক্রি করে দেয় এবং আমার একাউন্টে বকেয়ার পরিমান জমতে থাকে। আমি এর কিছু্‌ই জানিনা। কিছুদিন আগে আমার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। আজ সংযোগ নিতে গিয়ে এই ঘটনা জানতে পারলাম। বকেয়ার ব্যপারে একটা সমাধান না করা পর্যন্ত নতুন লাইন নেয়া যাবে না। সেই সমাধান যদি হয় সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ, তাহলে আমার খবর আছে! প্রায় ৪,৬০০০০ ওউন পরিশোধ করতে হবে যা কিছুদিন আগেও আমার একমাসের বেতনের কাছাকাছি ছিলো। কোরিয়াতে এসে প্রথমবারের মত বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হলাম (সম্ভবত)।

প্রফেসরকে দেশে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলাম। প্রফেসর খুবএকটা রাজি নন। তিনি ইমেইলের মাধ্যমে আমার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহবান জানিয়েছেন। আমি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছি। দেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এক সেমিস্টার পিছিয়েছি। সেটা এখন প্রফেসরকে গুছিয়ে লিখে ইমেইলের মাধ্যমে জানানোর চেষ্টা করছি।

আগামীকাল ওপেনবুক পরীক্ষা। আজ একটা ক্লোজড বুক পরীক্ষা ছিলো। যাচ্ছেতাই পরীক্ষা দিয়েছি।

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১১

11-11-18 বিদেশের মাটিতে প্রথম জন্মদিন

বিদেশের মাটিতে প্রথম জন্মদিন উদযাপিত হল। দিনের শুরুতে চিকেন ফ্রাই, ছোট কেক, সাথে বিয়ার। ব্যচলরদের নিয়ে ভালোই উদযাপিত হল। দিন শেষ হল ল্যাবমেটদের সাথে উদযাপনের মধ্য দিয়ে।