বিজ্ঞানব্লগে আজ অনেকগুলো পোস্ট এসেছে সেগুলো পড়লাম আর ফেসবুকে শেয়ার দিলাম। বিশেষ কিছু আসলে এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তিন-চার দিনের জমানো ফিরিস্তি লিখতে বসেছি।
বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১২
শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১২
2012-11-16: মোবাইল সমস্যার সেমি সমাধান
আজ লাঞ্চের পর আমি, কোরিয়ান ল্যাবমেট ঝংওউন জুন এবং নাজমুলভাই মিলে ডাউনটাউন গেলাম মোবাইলের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়ার জন্য। ঝংওউন আগেই ফোন করে খোঁজ-খবর নিয়ে এই ঠিকানা জোগাড় করেছে। এটাও একটা LG-এজেন্সী। এই দোকানে ঢুকেই সেই লোকটিকে দেখতে পেলাম যার কাছ থেকে মোবাইল কিনেছি। আমাদের দেখে সে একটু আড়ালে আড়ালে থাকার চেষ্টা করল। আমি কিছুক্ষণ দেখার পর নিশ্চিত হলাম এই সেই লোক। (কোরিয়ানদের সবার চেহারা একই রকম লাগে)। ডেস্কে অপর একজন লোকের সাথে ঝংওউনের বেশ কিছুক্ষণ কথা-বার্তা হল। তাকে দেখে অসন্তুষ্ট মনে হল। আমি হালকা ভয় পেলাম। কারন আমাদের মধ্যে কথা হয়েছিল টাকা আদায়ের ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি না হলে পুলিশ স্টেশনে যাব। তবে কথাবার্তা শেষ হওয়ার পর যখন বের হয়ে এলাম তখন সে বলল তারা টাকা ফেরত দিতে রাজি হয়েছে। সোমবারে আমার টাকা পরিশোধ করে দেয়া হবে কারন মাঝখানে সাপ্তাহিক ছুটি। তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে। তবে টাকাটা যে তারাই নিয়েছে এটা স্বীকার করেনি। বলেছে অন্য কোনো বিদেশী আমার আইডি নিয়ে এসে টাকা তুলে নিয়ে গেছে!
এরপর সে LG এর কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে বিস্তারিত অভিযোগ করল। এদের শাস্তির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করল। আমি আপতত টাকা উদ্ধার করতে পারলেই খুশি। বললাম আগে টাকাটা জমা হোক তারপর যা করার করি। সে রাজী হল না। বলল আজই গিয়ে লিখিত অভিযোগ করে আসবে। রওনা দেয়ার কিছুক্ষণ পরে সে বলল এখন যাবে না । সে খুব টায়ার্ড। কিছুক্ষণ পর যাবে। কিছুক্ষণ পরও আর যাওয়া হল না। আজ আর যাওয়াই হল না। ভাবগতিক দেখে মনে হচ্ছে আগামীকালও যাওয়া হবে না।
এরপর সে LG এর কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে বিস্তারিত অভিযোগ করল। এদের শাস্তির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করল। আমি আপতত টাকা উদ্ধার করতে পারলেই খুশি। বললাম আগে টাকাটা জমা হোক তারপর যা করার করি। সে রাজী হল না। বলল আজই গিয়ে লিখিত অভিযোগ করে আসবে। রওনা দেয়ার কিছুক্ষণ পরে সে বলল এখন যাবে না । সে খুব টায়ার্ড। কিছুক্ষণ পর যাবে। কিছুক্ষণ পরও আর যাওয়া হল না। আজ আর যাওয়াই হল না। ভাবগতিক দেখে মনে হচ্ছে আগামীকালও যাওয়া হবে না।
২০১২-১১-১৫: রুটিন কাজ
আজ যদিও মোবাইলের ব্যপারে একটা মীমাংসা করার কথা ছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত যাওয়া হয়নি।্আগামীকাল যাওয়ার সম্ভবনা আছে। আজ সন্ধায় ল্যাব ক্লীনিং নিয়ে ল্যাবে একটু ঝামেলা হয়ে গেছে তবে শেষ পর্যন্ত খুব সমস্যা ছাড়াই ঝামেলা মিটেছে। বিস্তারিত না বলাই ভালো।
2012-11-14: মোবাইল ঘটিত সমস্যা continued
আজ সন্ধ্যার দিকে আমার মোবাইল ঘটিত সমস্যার কথা বিস্তারিত আমাদের কোরিয়ান ল্যাব মেম্বারকে বলা হয়েছে। বিস্তারিত শুনে সে তৎক্ষণাৎ আমাকে এবং নাজমুলভাইকে নিয়ে সেই দোকানে ছুটল। সেই দোকানে কথা বলে যা জানা গেল:
* আমার মোবাইল কেনা এবং লাইন নেয়ার সময় যখন আইডি দেখানো হয়েছিল সেই আইডির একটা কপি তৎকালীন সেলসম্যান কপি করে রেখে দেয়।(ধারনা)
* সেই আইডির কপি ব্যবহার করে আমার ফোন একাউন্ট থেকে > ৪০০,০০০ ওউন তুলে নেয়া হয়। (কোরিয়ানে মোবাইল ফোন একাউন্ট থেকে এডভান্স টাকা তোলার ব্যবস্থা আছে)।
* সেই টাকা যথাসময়ে ফেরত না দেয়ায় আমার মোবাইল ফোনটিকে ইনএক্টিভ করা হয়। আমি আমার ফোনসেট চেঞ্জ করে নম্বরটি ব্যবহার করতে থাকি। একপর্যায়ে সেটাও ইনএক্টিভ করা হয়।
* এই কাজটি যে করেছে সে সম্ভবত মনে করেছে আমি এই ব্যাপারে কোন claim করতে পারব না কিংবা আমি ব্যপারটা জানতেও পারব না এবং আমাকে যখন দেশে যাওয়ার পথে এয়ারপোর্টে ধরবে তখন সেখানে পরিশোধ করতে বাধ্য হব।(বিদেশীরা যখন কোরিয়া ত্যাগ করে তখন কোরিয়াতে থাকাকালীন তার বকেয়া চেক করা হয় এবং সেটা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়। সবই ডিজিটাল সিস্টেম)।
রাত হয়ে যাওয়ায় সেদিনের মত আর কিছু করা সম্ভব হয় নি। ঠিক হল পরদিন সেই কোরিয়ান ল্যাব মেম্বার সহ আরো দুইজন এবং আমি এইব্যাপারে খোঁজ করে ব্যবস্থা নিব। কিছুটা আস্বস্ত হলাম।
* আমার মোবাইল কেনা এবং লাইন নেয়ার সময় যখন আইডি দেখানো হয়েছিল সেই আইডির একটা কপি তৎকালীন সেলসম্যান কপি করে রেখে দেয়।(ধারনা)
* সেই আইডির কপি ব্যবহার করে আমার ফোন একাউন্ট থেকে > ৪০০,০০০ ওউন তুলে নেয়া হয়। (কোরিয়ানে মোবাইল ফোন একাউন্ট থেকে এডভান্স টাকা তোলার ব্যবস্থা আছে)।
* সেই টাকা যথাসময়ে ফেরত না দেয়ায় আমার মোবাইল ফোনটিকে ইনএক্টিভ করা হয়। আমি আমার ফোনসেট চেঞ্জ করে নম্বরটি ব্যবহার করতে থাকি। একপর্যায়ে সেটাও ইনএক্টিভ করা হয়।
* এই কাজটি যে করেছে সে সম্ভবত মনে করেছে আমি এই ব্যাপারে কোন claim করতে পারব না কিংবা আমি ব্যপারটা জানতেও পারব না এবং আমাকে যখন দেশে যাওয়ার পথে এয়ারপোর্টে ধরবে তখন সেখানে পরিশোধ করতে বাধ্য হব।(বিদেশীরা যখন কোরিয়া ত্যাগ করে তখন কোরিয়াতে থাকাকালীন তার বকেয়া চেক করা হয় এবং সেটা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়। সবই ডিজিটাল সিস্টেম)।
রাত হয়ে যাওয়ায় সেদিনের মত আর কিছু করা সম্ভব হয় নি। ঠিক হল পরদিন সেই কোরিয়ান ল্যাব মেম্বার সহ আরো দুইজন এবং আমি এইব্যাপারে খোঁজ করে ব্যবস্থা নিব। কিছুটা আস্বস্ত হলাম।
মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১২
2012-11-13: কোর্স এসাইনমেন্ট
একটা কোর্সের এসাইনমেন্ট নিয়ে সারাটাদিন ব্যস্ত থেকেছি। Topic হলো nanoceramics. খুবই জঘন্য একটা বিষয়। ইন্টারনেট ঘেটে তেমন কিছু পেলাম না। অধিকাংশই একটা বই থেকে কপি-পেস্ট মেরে দিয়েছি। Assignment, reassign করা হয় কিনা কে জানে।
2012-11-12: ল্যাব মিটিং
সোমবারের আতঙ্ক ল্যাবমিটিং ভালোভাবেই পার করলাম। সাধারণ একটা দিন পার হল। আজ আমার দুই রুমমেটের পিএইচডি ডিফেন্স ছিল। এই উপলক্ষ্যে তাদের কাছ থেকে সন্ধ্যায় পার্টি আদায় করেছি। আদায় বলতে রেস্টুরেন্টে গিয়ে চিকেন ফ্রাই খেয়ে তাদের নামে বিল করে দিয়েছি! তারা সেই সময় প্রফেসরদের আপ্যায়নে ব্যস্ত ছিলেন।
কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটা রেওয়াজ আছে। ডিগ্রি প্রার্থীদের একটা নির্দিষ্ট দিনে ডিফেন্স হয়। ডিফেন্স শেষে প্রফেসরদের নিয়ে যেতে হয় রেস্টুরেন্টে। যেনতেন রেস্টুরেন্টে নয়, একেবারে প্রথম সারির রেস্টুরেন্টে। যেই বার ছাত্র-ছাত্রী বেশী থাকে সেইবারে একেকজনের ভাগে খরচের পরিমান কম পড়ে। তবে আসল খরচটা আসে আরো পরে। একেকজন ছাত্রের বা ছাত্রীর ডিগ্রির জন্য পাঁচজন প্রফেসরের একটা গ্রুপ থাকে। মুল ডিফেন্সের পর এককভাবে এই গ্রুপের কাছে ভাইভা দিতে হয়। এবং যথারীতি ভাইবার পর প্রফেসরদের খাওয়াতে নিয়ে যেতে হয়। সেই সিটিংও হয় আবার একাধিক!
কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটা রেওয়াজ আছে। ডিগ্রি প্রার্থীদের একটা নির্দিষ্ট দিনে ডিফেন্স হয়। ডিফেন্স শেষে প্রফেসরদের নিয়ে যেতে হয় রেস্টুরেন্টে। যেনতেন রেস্টুরেন্টে নয়, একেবারে প্রথম সারির রেস্টুরেন্টে। যেই বার ছাত্র-ছাত্রী বেশী থাকে সেইবারে একেকজনের ভাগে খরচের পরিমান কম পড়ে। তবে আসল খরচটা আসে আরো পরে। একেকজন ছাত্রের বা ছাত্রীর ডিগ্রির জন্য পাঁচজন প্রফেসরের একটা গ্রুপ থাকে। মুল ডিফেন্সের পর এককভাবে এই গ্রুপের কাছে ভাইভা দিতে হয়। এবং যথারীতি ভাইবার পর প্রফেসরদের খাওয়াতে নিয়ে যেতে হয়। সেই সিটিংও হয় আবার একাধিক!
সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১২
12-11-11: আজ সাপ্তাহিক ছুটি
আজ সাপ্তাহিক ছুটি তাই সকাল সকাল উঠেই ল্যাবে চলে গেলাম। সেখানে সারাদিন কাজ করলাম, সোমবারের জন্য ল্যাব রিপোর্ট তৈরি করলাম এরপর রাত আটটায় বাসায় ফিরে এলাম। চমৎকার একটা ছুটি কাটল!
শনিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১২
12-11-10: Paper accepted একটা শুভ দিন।
আজ দিন শুরু হয়েছে একটা অতি সুখবর দিয়ে। সকালে এসেই মেইল চেক করে দেখি আমার দ্বিতীয় paper, CrystalGrowthDesign এ accept হয়েছে। দুপুরে আরেকটা! যদিও এটাতে আমি তৃতীয় author. এটা হলো Applied Catalysis:A তে। অতি সফল একটা দিন।
বিকালে হালকা নাস্তা করতে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু সবগুলো স্ন্যাকসের দোকান বন্ধ ছিল। আজকে শনিবার কি না! তবে এতে একটা বড় লাভ হয়েছে। একটা সস্তা রেস্টুরেন্ট ছিলো যেটাকে অনেকদিন ধরে ঢুকি ঢুকি করে ঢোকা হয় নি। আমার সাথে আমার ল্যাবমেট সানি ভাই ছিলেন। এখানে ঢুকে ঝিমতাক খেলাম মাত্র ৪০০০ ওউনে। সেই সাথে side dish ছিলো অনেকগুলো। সাথে একটা বড় আয়তনের স্যুপ। ভাবা যায় না! খাবারের মান মাঝামাঝি। আমারা দুজনে খেয়ে পেট ভরে গেছে। এই রেস্টুরেন্টে আরো অনেকবার আসতে হবে। এখানকার সবগুলো ডিশ ৪০০০ করে। কয়েকটার ছবি দেখে লোভ লেগেছে।
সন্ধ্যায় নতুন বাড়িওয়ালার কাছ থেকে চাবি নিয়ে এসেছি। আমার দুইজনের রুমমেটের কোর্স শেষ এই সেমিস্টারে। কাজেই এই বাসাটা ছেড়ে দিতে হবে। আগামীমাস থেকেই নতুন বাসায় উঠছি। এই বাসাটা মোটামুটি আমার প্রথম বাসার মতোই। আপাততঃ একাই উঠছি।
আজ রাতে গৌতমঘোষের মনের মানুষ দেখলাম। ছবিটার সিনেমাটোগ্রাফি যথেষ্ট চমৎকার ছিলো। তবে এই ছবিটি ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে অভিযুক্ত, যদিও আমি লালনের জীবনী সম্পর্কে জানি না।
বিকালে হালকা নাস্তা করতে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু সবগুলো স্ন্যাকসের দোকান বন্ধ ছিল। আজকে শনিবার কি না! তবে এতে একটা বড় লাভ হয়েছে। একটা সস্তা রেস্টুরেন্ট ছিলো যেটাকে অনেকদিন ধরে ঢুকি ঢুকি করে ঢোকা হয় নি। আমার সাথে আমার ল্যাবমেট সানি ভাই ছিলেন। এখানে ঢুকে ঝিমতাক খেলাম মাত্র ৪০০০ ওউনে। সেই সাথে side dish ছিলো অনেকগুলো। সাথে একটা বড় আয়তনের স্যুপ। ভাবা যায় না! খাবারের মান মাঝামাঝি। আমারা দুজনে খেয়ে পেট ভরে গেছে। এই রেস্টুরেন্টে আরো অনেকবার আসতে হবে। এখানকার সবগুলো ডিশ ৪০০০ করে। কয়েকটার ছবি দেখে লোভ লেগেছে।
সন্ধ্যায় নতুন বাড়িওয়ালার কাছ থেকে চাবি নিয়ে এসেছি। আমার দুইজনের রুমমেটের কোর্স শেষ এই সেমিস্টারে। কাজেই এই বাসাটা ছেড়ে দিতে হবে। আগামীমাস থেকেই নতুন বাসায় উঠছি। এই বাসাটা মোটামুটি আমার প্রথম বাসার মতোই। আপাততঃ একাই উঠছি।
আজ রাতে গৌতমঘোষের মনের মানুষ দেখলাম। ছবিটার সিনেমাটোগ্রাফি যথেষ্ট চমৎকার ছিলো। তবে এই ছবিটি ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে অভিযুক্ত, যদিও আমি লালনের জীবনী সম্পর্কে জানি না।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)