মানুষের সবচেয়ে বড় মৌলিক অধিকার কি? আপনারা হয়তো বলবেন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি ইত্যাদি.... ক্লাস ফোর ফাইভে এসব মুখস্থ করে এসেছিলেন। যদি এসব মৌলিক অধিকার মনে করেন তাহলে ধরে নিতে হবে সবাই একেকজন জমিদার পুত্র। একজন অতিসাধারন মানুষ হিসেবে এতটা বিলাসিতা দেখানো আমাদের শোভা পায় না। মানুষ হিসেবে টিকে থাকাটাই আপনার মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে কিনা সেটা একবার ভেবে দেখেন।
আমাদের ভাতৃত্ববোধের কোন তুলনা নেই। আমরা বোধহয় যীশুখৃষ্টের নীতিতে বিশ্বাসী - তোমার একগালে কেউ চড় মারলে আরেক গাল পেতে দাও। অবশ্য আমাদের উদারতার কাছে যীশুখৃষ্টসহ পৃথিবীর সব মহাপুরুষের মহা উদারতা ম্লান হয়ে যায়। আমাদের এক সন্তানের উপর কেউ টার্গেট প্র্যাকটিস করলে আরেক সন্তানকে সামনে তুলে ধরে বলি 'আইস ভ্রাতা। আমার আরেকটি সন্তান অবশিষ্ট আছে। ইহার উপরে তোমার নিশানা দেখাও তো দেখি। আমরা তো পশু-পাখির চেয়ে উন্নত কোন জীবন যাপন করি না।'
অবশ্য এ তো হতেই পারে। বেঁচে থাকা তো আমাদের মৌলিক চাহিদা নয়। আমাদের মৌলিক চাহিদা হলো মুনাফা। যে কারনে আমরা ট্রানজিট নিয়ে বৈঠকের পর বৈঠক করে যাই। কে কোন দিক দিয়ে কি সুবিধা দিলে কার কত অর্থ সাশ্রয় হবে, কত শর্টকাটে কত কম সময়ে পণ্য ভোগ করতে পারব, বিদ্যুৎ আমদানী করলে দুইটা এসি বেশী চালাতে পারব, এসির বিক্রিও বাড়বে।
সীমান্তে যদি দুইচারজন লোক মারা যায় তাতে কি যায় আসে। জনসংখ্যা আর কর্মসংস্থান নিয়ে এমনিতেই আমরা ঝামেলার মধ্যে আছি। তারচেয়ে অটোম্যাটিক্যালি যদি সমস্যা কিছুটা লগব হয় তো ক্ষতি কি?
এটা কিভাবে সম্ভব? একজন মানুষ আরেকজন মানুষের উপর কিভাবে নির্দ্বিধায় গুলি চালিয়ে দিতে পারে? সামনে দিয়ে হেঁটে গেল দুম করে দিলাম গুলি করে, তুই আমার এলাকায়? যা, ঠুশ! বিন্দু মাত্র দ্বিধা-সংকোচও কি হয় না? নাকি ট্রেনিংএর সময় কোন রকম সাইকোথেরাপি দিয়ে প্রতিরক্ষায় পাঠানো হয়। এব্যাপারে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ কোন তথ্য দিতে পারেন কি?
মিডিয়া এখন যথেষ্ট শক্তিশালী, কোন খবরই আমাদের অজানা থাকেনা। গত দুবছরে আপনাদের দুই পক্ষের মধ্য অনেক আলাপ আলোচনার খবর আমরা পড়েছি, জেনেছি। দুই পক্ষই একে অপরকে যথেষ্ট আপ্যায়ন করেছেন, অনেক সমস্যার সমাধান করেছেন বা করবেন বলে মনস্থির করেছেন, আর কিছু না হলেও অন্তত কল্পনা করেছেন। কিন্তু এই ইস্যুটি কি আপনাদের কল্পনাতেও এসেছে? একে অপরকে কতটা অর্থনৈতিক সুবিধা দেবেন সেটা স্থির করেছেন, কিন্তু এক পক্ষ অপর পক্ষকে কতটা 'মানুষ' মনে করবেন সে ব্যপারে কি কোন আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন? নিলে তো শক্তিশালী মিডিয়ার বদৌলতে তার কিছুটা আমাদেরও কান ভারী করত। 'মানুষ' টার্মটার একটা বায়োলজিক্যাল সংগা আছে। সে সঙগা অনুসারে মানুষকে অন্য প্রাণী থেকে আলাদা করা যায়। এই সভ্যযুগে এসে একটা রাজনৈতিক সঙগাও বোধহয় দাঁড়িয়ে গেছে।
কবির সুমনের গান:
কত হাজার মরলে পরে বলবে তুমি শেষে
বড্ড বেশী মানুষ গেছে বানের জলে ভেসে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন